ঝটিকা সফরে ইরাকে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক

আকস্মিক এক সফরে ইরাক ঘুরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার বাগদাদের একটি বিমান ঘাঁটিতে নেমেই তিনি দেশটিতে কাজের জন্য মার্কিন সেনাদের প্রশংসা করেন। আর এটাই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনো যুদ্ধাঞ্চলে ট্রাম্পের প্রথম সফর।

আলজাজিরা জানায়, ট্রাম্পের এ অঘোষিত সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরাকের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। দেশটির পার্লামেন্টের প্রভাবশালী আল-ইসলাহ জোটের নেতা সাবাহ আল সাদি এ ঘটনায় পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশনের আহ্বান করেছেন।

ট্রাম্পের এ সফরকে তিনি ইরাকের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন এবং একে আক্রমণমূলক আচরণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের উচিত তার সীমা সম্পর্কে সচেতন হওয়া। ইরাকে মার্কিন দখলদারির অবসান ঘটেছে।’

আল-ইসলাহ মূলত দেশটির জনপ্রিয় শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল-সদরের জোট। আল-সদর কট্টর মার্কিনবিরোধী বলে পরিচিত।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসাইনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে অভিযান চালায়। সেই সঙ্গে দেশটি আল কায়েদার উপস্থিতিরও দাবি করে। যদিও শেষ পর্যন্ত এর সত্যতা মেলেনি। শুরু থেকেই মার্কিন এই অভিযানের বিরোধী ছিলেন আল-সদর।

পার্লামেন্টে আল-ইসলাহের বিরোধী বিনা জোটও ইরাকে ট্রাম্পের এ সফরের নিন্দা জানিয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের এই জোট ইরান সরকার সমর্থিত মিলিশিয়া নেতা হাদি আল-আমিরি নেতৃত্বাধীন।

এক বিবৃতিতে বিনা জোট জানায়, ট্রাম্পের এ সফর নীতিবিরুদ্ধ এবং স্পষ্ট কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিবর্জিত। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি ইরাকি সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ককে অসম্মান করেছেন।

আলজাজিরা জানায়, ইরাকের তিন ঘণ্টার এ সফরে ট্রাম্প দেশটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা করেননি। প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠক বাতিল করে টেলিফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরাকের নেতৃবৃন্দ ট্রাম্পের এ সফরের কথা জানতেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ আগেই এ সম্পর্কে তাদের জানিয়েছে। বৈঠক নিয়ে মতবিরোধ হওয়ায় ইরাকি প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, মূলত বৈঠকস্থল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আদেল সম্মত হতে পারেননি। ট্রাম্প তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আইন আল-আসাদ সামরিক ঘাঁটিতে আসতে। সেখানে যেতে অসম্মতি জানান ইরাকি নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *