নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে নির্বাচন

ক্যাম্পাস

আগামী ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশব্যাপী বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে তরুন ও নতুন ভোটাররা নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এবার ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় শতকরা সাড়ে ২৮ ভাগ। আর জীবনের প্রথম ভোট কে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বসিত অধিকাংশ নতুন ভোটার।

তারা সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চায়। তারা চায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্রপূর্ন সম্পর্ক বজায় থাকুক। হানাহানি ও মারামারি মুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দাবি তরুণদের। এবারের নির্বাচনে নতুন ভোটার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্বাচন ভাবনা, সেইসাথে তারুন্যের ইশতেহার নিয়ে তাদের ভাবনার কথা জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান সবুজ।

কামরুল হাসান শাকিম

কামরুল হাসান শাকিম (কৃষি বিভাগ) :

ভোটারদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণে সুষ্ঠু অবাদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিব। সুষ্ঠু নির্বাচন ও দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে । যারা জনপ্রতিনিধি হবেন তাদের নিকট তরুণদের পক্ষ থেকে আমার অনুরোধ হচ্ছে উন্নয়নের এ জোয়ার যেন ওনারা অব্যাহত রাখেন।

বেকারত্ব বর্তমান বাংলাদেশের জন্য একটি অভিশাপ। তরুণদের জন্য নতুন চাকুরীক্ষেত্র ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প বা কর্মসূচি হাতে নেয়ার অনুরোধ রইলো।

রায়হান রাহী

রায়হান রাহী (অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ) :

নির্বাচন প্রজাতন্ত্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা, যে ক্ষমতাবলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেশের আইনবিভাগকে পুনর্বিন্যাস করে জনগণ। জনগণের এই চূড়ান্ত ক্ষমতার সঠিক বাস্তবায়নে কাজ করা দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যদি সকল স্তরের মানুষ নিজ নিজ জায়গা থেকে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করে তবেই আমরা একটি সফল নির্বাচন আশা করতে পারি। তাই ভোটের দিন সমস্ত নিয়ম নীতি মেনে নিজের সুচিন্তিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করাকে নাগরিক দায়িত্ব বলে মানি। একটি সুন্দর নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক দল গুলোর স্থিতিশীলতা।

এক্ষেত্রে প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলকে ভোটকেন্দ্রে তাদের এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে বিচারবুদ্ধির প্রধান্য দিতে হবে এবং নির্বাচনের পর ক্ষমতার বণ্টনে সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারকে নির্বাচনী প্রচারণা ভেবে ভুল করলে চলবেনা। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী একটি বিশাল তরুণ প্রজন্ম দেশে বেড়ে উঠছে, এবং এই তারুণ্যই দেশ গঠনের জ্বালানি ও জনশক্তি হিসেবে কাজ করবে সামনের দিনগুলোতে।

‘তারুণ্যের ইশতেহার’ এ উল্লেখিত ১০ টি দাবী সময়োপযোগী, বিশেষ করে ছাত্র সংসদ ও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয় দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সরকারের উচিত এই দাবীগুলো নিয়ে চিন্তা করা এবং দেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের সঠিক বিকাশে পূর্ণ মনোযোগ দেয়া। কারণ এরাই ভবিষ্যত বাংলাদেশ।

ছাফওয়ান উল্লাহ

ছাফওয়ান উল্লাহ (অর্থনীতি বিভাগ) :

একটি গণতান্ত্রিক দেশে সরকার পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও অনুরূপ নিয়ম প্রচলিত। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আগামী ৩০শে ডিসেম্বর প্রথমবারের মত বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এদিকে এবারের নির্বাচনে জীবনে প্রথমবারের মত ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করবো বিধায় অনুভূতিও বর্ণনাতীত। আমার ভোটটি যেন নির্বিঘ্নে বিনা বাধায় দিতে পারি সেজন্য সুষ্ঠ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনারের প্রতি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ থাকবে।

ভোটের দিন আমি আমার পরিবারের সকলকে নিয়ে যার যার পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে সকাল বেলায় ভোটকেন্দ্রে যাবো। এক্ষেত্রে পরিবেশ পরিস্থিতি সুষ্ঠ রাখার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকারি দলসহ অন্যান্য দলগুলোর নমনীয় ও সহাবস্থান কামনা করছি।

ইতোমধ্যে তরুণ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বড় জোট হিসেবে মহাজোট এবং ঐক্যফ্রন্টের নিকট তারুণ্যের ইশতেহার পৌছানো হয়েছে। একজন তরুন হিসেবে আমি চাইব যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যেন তারুণ্যের ইশতেহারকে অগ্রাধিকার দেয়। নির্বাচন পরবর্তী ক্ষমতাশীন দলের প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন বিরোধীমতালম্বী দলের প্রতি সহমর্মি হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করে।

ফারজানা প্রকৃতি

ফারজানা প্রকৃতি (অনুজীববিজ্ঞান বিভাগ) :

গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে যারা পরবর্তীতে জনগণের জন্য কাজ করবে। তাই একজন গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে আমি চাই নির্বাচন হোক সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। যেহেতু ভোট মতামত প্রকাশের গণতান্ত্রিক মাধ্যম তাই ভোটের দিন একজন যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবো যিনি সত্যিকার অর্থেই দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে। আমি মনে করি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশের রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এবারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক তরুন প্রথম ভোট দিবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর তরুনদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা থাকা জরুরী বলে আমি মনে করি। তরুনরা যাতে কোনো সময়ই হতাশ না হয় এবং সবসময় দেশের চালিকাশক্তি হিসেবে সবসময় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে পারে সেদিক রাজনৈতিক দলসমূহ এবং সরকারের নিশ্চিত করতে হবে। দেশের একটা বড় অংশই যখন তরুণ সমাজ তাই তরুণদের কথা সবার আগে ভাবতে হবে। নির্বাচনে জয়ী দল তারুণ্যের ইসতেহারের ইতিবাচক দিকগুলি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করলে তরুণ প্রজন্মের আশার বাস্তবায়ন হবে।

মোহোসীনা লিসা

মোহোসীনা লিসা (অনুজীববিজ্ঞান বিভাগ) :

আমি একটি সুষ্ঠু,অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই যেখানে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি থাকবে না। যেখানে জনগণ তাদের ইচ্ছেমত একজন যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচনের সুযোগ পাবে। জীবনের প্রথম ভোট নিয়ে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। আমি একজন সুনাগরিক হিসেবে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিবো। আমি মনে করি দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবশ্যই স্হিতিশীলতা প্রয়োজন।

কারণ, একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পূর্বশর্তই হলো সবগুলো রাজনৈতিক দলের মধ্যে স্হিতিশীলতা বজায় রাখা। রাজনৈতিক স্হিতিশীলতা একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অনেক বেশি জরুরি। এবারের নির্বাচনে তরুন সমাজ যে তারুণ্যের ইশতেহার ঘোষনা করেছে তা একটি মানবিক ইশতেহার। তারুন্যের ইশতেহার ভাবনা তে যে দাবীগুলো তুলে ধরা হয়েছে তা একটি পরিছন্ন রাজনীতির হাতছানি। একজন তরুণ ভোটার তথা তরুণ নাগরিক হিসেবে আমি চাই আগামীতে যে রাজনৈতিক দলগুলো আসবে তারা যেন তাদের কর্মকান্ডে তারুণ্যের এ ইশতেহারগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

হিমেল শাহরিয়ার

হিমেল শাহরিয়ার (বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগ) :

দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। বিগত নির্বাচন গুলোর মত আগের রাতেই যাতে ব্যালট বাক্স পুরণ না হয়। এছাড়া ভোটের দিন কেন্দ্র দখল, ভোট চুরি, হানাহানি এসব যাতে না হয় এবং সবাই যাতে নিজের পছন্দের প্রার্থী কে ভোট দিতে পারে সেদিকে রাজনৈতিক দলসমূহ এবং দেশের সকল দায়িত্ববান নাগরিকের নজর রাখতে হবে। এবারের নির্বাচনে আমি একজন নতুন ভোটার। তাই জীবনের প্রথম ভোট উৎসবমুখর পরিবেশে দিতে আমি মুখিয়ে আছি।

ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে প্রথমবারের মত ভোট দিব এবং নিজের পছন্দের প্রার্থী কে ভোট দিব। আমি সবসময়ই রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে স্থিতিশীলতা আশা করি। যাতে নির্বাচনের সময় এবং সারাবছর ব্যাপী দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক ধারা বজায় থাকে। আমি একজন তরুন হিসেবে তারুণ্যের ইশতেহারে যেসকল ইসতেহার বর্নিত আছে আমার আশা যে দলই ক্ষমতায় আসুক তারা তা বাস্তবায়ন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *