প্রিয়াংকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর

সম্পাদকীয়

মিয়ানমারে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের অবস্থা দেখতে এসেছেন ইউনিসেফ শুভেচ্ছাদূত ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া।

মঙ্গলবার উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের একটি শিশুবান্ধব কেন্দ্রে নির্যাতিত ও নিজ বাসভূম থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শিশুদের মুখে অত্যাচার, নিপীড়নের বর্ণনা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক এ বিশ্বসুন্দরী। আশার কথা, শিশুবান্ধব কেন্দ্রের শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রিয়াংকা চোপড়া বলেছেন, তিনি তার দক্ষতা, সক্ষমতা ও ক্ষমতার সবটুকু দিয়ে ইউনিসেফের পক্ষ হয়ে তাদের দুঃখগাথা ও দাবি বিশ্বের কাছে তুলে ধরবেন, যাতে তারা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় ইতিমধ্যে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠী মিয়ানমারে গণহত্যার কড়া সমালোচনা করেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেছেন। মিয়ানমারের নিধনযজ্ঞের প্রতিবাদে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘে নিযুক্ত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেছেন। সর্বশেষ গত ৫ ও ৬ মে ঢাকায় ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫৭ জাতির ওআইসি গ্র“পের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল রোহিঙ্গা সংকট। এছাড়া কিছুদিন আগে ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া সফরকালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অস্ট্রেলীয় সরকারের ভূমিকা কী হতে পারে তা জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এ অবস্থায় ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ভারতীয় অভিনেত্রীর বাংলাদেশ সফর মিয়ানমার সরকারের প্রতি চাপ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে নতুন একটি পালক যোগ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যা ঘটেছে, তা গণহত্যার শামিল। মিয়ানমার থেকে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আসা দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছে, যাদের উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে শিশু-কিশোর।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্ব জনমত গঠন ও আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা জরুরি। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের কুশীলবদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায় মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন ও নিপীড়নের জন্য দেশটির সামরিক জান্তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, এটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *