বিদেশী পাখির কলকাকলীতে অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব

ভ্রমন

নড়াইলের অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবে শীতের শুরুতেই ভরে গেছে দেশি বিদেশী পাখী। নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার পানিপাড়া গ্রামে অবস্থিত এ রিসোর্টে গত কয়েক বছর যাবত এতো বেশি অতিথি পাথী আসতে শুরু করেছে যে, রিসোর্টে তাদের বসার জায়গা সংকুলান হচ্ছে না।

রিসোর্ট জুড়ে বসেছে পাখির মেলা। পাখিতে ভরে গেছে পুরা পানিপাড়া গ্রাম। ইতোমধ্যে এ গ্রামটি পাখির গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করেছে। চারিদিকে শুধু পাখি আর পাখি। শীতের শুরু থেকেই হরেক রকম অতিথি পাখির দেখা মিলছে এই রিসোর্টটিতে।

পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবসহ গোটা এলাকা। বিকেল হলেই লেক পাড়ের গাছগুলোতে পাখির কিচির-মিচির শব্দে সৃষ্টি হয় এক ছন্দময় পরিবেশ। অরুণিমা রিসোর্টের ৬০ একর বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য গাছপালা, ফুল আর প্রকৃতি।

এমন আনন্দঘন পরিবেশে রিসোর্টের লেকে নৌকায় করে ঘুরে ঘুরে এ দৃশ্য উপভোগ করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। সরজমিন প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমের শুরুতেই দেশী-বিদেশী পাখিতে ভরে গেছে রিসোর্ট সহ গোটা এলাকা।

বছরের প্রায় ১২ মাস-ই অতিথি পাখির বিচরণ রয়েছে এই অরুণিমায়। তাই পাখির কিচিরমিচির শব্দ ও উড়াউড়ি পর্যটকদের দিচ্ছে বাড়তি আনন্দ। দেশি এবং অতিথি পাখির এই অভয়াশ্রম টিকিয়ে রাখতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অরুণিমা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।

বিকেল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা অবধি অতিথি ও দেশি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠছে রিসোর্টটি। পাখির ডানা ঝাপটানি ও কিচির-মিচির শব্দে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। রিসোর্টটির ২৫ একর লেক জুড়ে যেন বসেছে দেশি-বিদেশি পাখির মেলা।

রয়েছে সাদা বকের ওড়াউড়ির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এ বছর এতো বেশি পাখি এসেছে যে, রিসোর্টে তাদের থাকার সংকুলান হচ্ছে না। সারা গ্রামের গাছপালাতে ভরে গেছে পাখি। আর এ সুযোগে কিছু পাখি শিকারীররা পাখি নিধন করছেন।

সচেতন এলাকাবাসি পাখি অফিসার নিয়োগ দিয়ে পাখি নিধন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের মিরাকেল গার্ডেনের অপরূপ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড় জমছে। শিশু কিশোরদের বিনোদনের জন্য রয়েছে দোলনা ও বিভিন্ন ধরনের রাইডিং।

বিশাল লেকে কায়াকিং রাইডিং ছাড়াও নৌ ভ্রমন করে বিনোদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। কুমির,হাঁস,সহ বিভিন্ন ধরনের পশু পাখি ও জীবজন্তু রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। নড়াইলের অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের ম্যানেজার মোঃ শাহাদৎ হোসেন জানান, অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর।

এখানে কোন কৃত্রিমতা নাই। গলফ খেলা সহ বিভিন্ন বিনোদন মূলক খেলার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। যে কোন ধরনের সভা ও প্রশিক্ষন পরিচালনার জন্য সুন্দর পরিবেশ ও হলরুম রয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য রয়েছে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির লাখ লাখ পাখি।

এখানে রাত যাপনসহ থাকা খাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা রয়েছে। সারা বছরই পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে রিসোর্টটি। অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের কর্মকর্তা বেল্টু জানান, অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব পাখিদের অভয়াশ্রম। বর্তমানে পাখি বেশি আসায় এখানে সংকুলান হচ্ছে না। তাই গ্রামের গাছপালা ভরে যাচ্ছে পাখিতে।

আর এ সুযোগে পাখি শিকারীরা অবাধে পাখি শিকার করছে। তাদের হাত থেকে পাখিদের রক্ষা করা খুবই জরুরী। এ ব্যাপারে সরকারি ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান এ কর্মকর্তা। অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের ডিএমডি ইরফান আহমেদ জানান,পর্যটকদের চাহিদা পূরনে সর্বাত্মক চেষ্টা করে নড়াইলের পানিপাড়া গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব।

এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বাইরে। পর্যটন শিল্পের উন্নযনের সাথে দেশের উন্নয়ন জড়িত। তাই এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ জনগন ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি থাকা প্রয়োজন। এ প্রতিষ্ঠানের এমডি খবির উদ্দিন আহমেদ জানান, দীর্ঘ জীবনের সি ত অর্থে মনের মাধুরী মিশিয়ে দৃষ্টি নন্দন এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন।

এ রিসোর্টটির কারণে আজ নড়াইলের পরিচিতি বেড়েছে, সুনাম বেড়েছে, এলাকার মানুষের আয বেড়েছে। পাখি ডাকা ছায়া সুনিবিড় মনোরম পরিবেশে দেশি-বিদেশী পর্যটকরা নিরাপত্ত বেষ্টনিতে মন খুলে ঘোরাফেরা করতে পারছে।

এক ঘেয়েমি কর্মমুখি জীবনের কিছুটা সময় এখানে কাটিয়ে অবসাদ দূর করার সুযোগ পাচ্ছে। এমডি খবির উদ্দিন আহমেদ অত্র এলাকায় পাখি অফিসার নিয়োগ দিয়ে পাখি নিধন বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *