হেরেছে বাংলাদেশ, সাবাস নাঈম।

খেলাধুলা

ক্ষ্যটা বেশ বড়ই, ১৭৫ রান। এই রান করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে পরপর লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় তারা। শুরুর ধাক্কা সামলে হাল ধরেন মোহাম্মদ নাঈম ও মোহাম্মদ মিঠুন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলেন না নাঈম। ইনিংস বড় করেও দলকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারেননি। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে ৩০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল রোহিত শর্মার দল।
শুরুতে চাপে পড়া বাংলাদেশের চিত্রই পাল্টে দিয়েছিলেন নাঈম-মিঠুনের তৃতীয় জুটি। দুজন মিলে গড়েন ৯৮ রানের জুটি। এর মাঝে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন নাঈম। ৭ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় মাত্র ৩৪ বলেই প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান তিনি।
তাই আশা দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু মিঠুনকে ফিরিয়ে এই ছন্দ থামান দিপক চাহার। ফেরার আগে ২৯ বলে ২৭ রান করেন তিনি। এরপর উইকেটে এসে টেকেননি মুশফিকুর রহিমও। শিবম দুবের বলে ফিরে যান প্রথম বলে। এরপরও বাংলাদেশ টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন তরুণ নাঈম। শেষ পর্যন্তু ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দুবের শিকার হন তিনি। মাত্র ৪৮ বলে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০ বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায়। নাঈম ফেরার পর আর কেউ দায়িত্ব নিতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত ওভারের চার বল আগেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।
ভারতের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন দীপক চাহার। হ্যাটট্রিকসহ ছয় উইকেট পান তিনি। আর তিনটি উইকেট নেন শিবম দুবে। এছাড়া মাহমুদউল্লাহর উইকেট শিকার করে টি-টোয়েন্টিতে নিজের ৫০তম উইকেট তুলে নেন চাহা।
এরআগে ব্যাট করতে নেমে লোকেশ রাহুল ও শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাটে নির্ধারিত ওভারে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে ভারত। নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রোহিতকে সরাসরি বোল্ড করলেন শফিউল ইসলাম। ফেরার আগে ৬ বলে মাত্র ২ রান করেন তিনি। এর আগে প্রথম ম্যাচেও শফিউলের বলে আউট হয়েছিলেন ভারতীয় ওপেনার
রোহিতের পর আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ানকেও সাজঘরে পাঠালেন শফিউল। ষষ্ঠ ওভারে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ধাওয়ান। ফেরার আগে ১৬ বলে ১৯ রান করেন তিনি।
দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। চাপ কাটিয়ে দলের দায়িত্ব নেন রাহুল-শ্রেয়াস। ৩৫ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন রাহুল। আল আমিনের বলে রাহুল ফিরলে ঝড় তোলেন শ্রেয়াস। বাংলাদেশি বোলারদের তুলোধুনো করে স্বাগতিকদের বড় লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। অবশ্য ১৫তম ওভারে আফিফের বলে বেশি ঝড় তোলেন তিনি। ওই ওভারে তিনটি ছক্কা মারেন। মাত্র ২৭ বলে তুলে নেন ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন শ্রেয়াস। তাতে নির্ধারিত ওভারে বাংলাদেশের সামনে ১৭৫ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় ভারত।বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ৩২ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন শফিউল। আল আমিন নেন একটি উইকেট। ৪ ওভার বল করে ৪২ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২৯ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন সৌম্য সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *