সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ বাংলাদেশের উপকূলের স্থলভাগ ধরে অতিক্রম করছে। এটি উপকূলের সাগরদ্বীপের পূর্ব পাশ ধরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করছে। উপকূলের স্থালভাগে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি একটু দুর্বল হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
ঢাকাস্থ আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ রাত সোয়া ৯টায় এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘স্থলভাগে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি একটু দুর্বল হয়েছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। এখন উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টি হচ্ছে।’
এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি সাতক্ষীরায় ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার বেগে বইছে। এ ছাড়া বাগেরহাটের মোংলায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৭৪ কিলোমিটার, খুলনার কয়রায় ৭৪ কিলোমিটার এবং নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৬৪ কিলোমিটার বলে জানান বজলুর রশিদ।
ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে এসে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যাবে এমন মন্তব্য করে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি সাগরদ্বীপের উপকূল ধরে সাতক্ষীরা হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এটি খুলনা, যশোর, মাগুরা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও জামালপুরের উপর দিয়ে চলে যাবে। এবং ক্রমশ দুর্বল একটি অংশ সিলেটে প্রবেশ করবে।’
এর আগে সন্ধ্যা ৭টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাওসার পারভীন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৪টার দিক থেকে আম্পান উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এখন সেটি সাগরদ্বীপের পূর্ব পাশ ধরে সুন্দরবন ও সাতক্ষীরার উপকূল ধরে অগ্রসর হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চার ঘণ্টা ধরে হয়তো এটি অতিক্রম করবে।’
একই কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ রাসেদুজ্জামান রাত সোয়া ৭টায় এনটিভি অনলাইনকে বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার ব্যাসের। ঘূর্ণিঝড়ের তিনটি অংশ- এর মধ্যে সামনের অংশটি বিকেল ৫টা নাগাদ স্থলভাগে উঠে আসে। মধ্যের অংশ যাকে ‘চোখ’ বলা হয়- সেটি এখন স্থলভাগে উঠেছে। এখন প্রবল বাতাস ও বৃষ্টি হচ্ছে। পেছনের অংশটা আরো পরে উপকূলে আসবে। সেখানেও বাতাসের প্রবল গতিবেগ থাকবে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ রাত সাড়ে ৭টার বুলেটিনে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বাধিক গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল। যা ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল। এখন সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
এই অবস্থায় দেশের মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সতর্ক সংকেত
মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এসব এলাকার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং এসব এলাকার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা
ঘূর্ণিঝড় ও দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং এসব এলাকার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা
ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং এদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০-১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
জেলেদের জন্য সতর্কতা
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।



