দেশের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রগুলোকে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ৩০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি আগামী বুধবার (১৩ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটে থাকা মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রগুলোকে আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা নারী, প্রসূতি মা ও নবজাতকদের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের ২৯টি জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ মা ও শিশু সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।
প্রকল্পের আওতায় থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, খুলনা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১০৬টি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র রয়েছে। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রই পুরনো ভবন, সীমিত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না।
নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০ শয্যার ইনডোর সুবিধা, অপারেশন থিয়েটার, প্রসূতি সার্জারি ব্যবস্থা, নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেবা এবং জরুরি চিকিৎসা সুবিধা চালু করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন করা হবে।
এছাড়া পুরনো ভবন পুনর্নির্মাণ করে বহুতল হাসপাতাল ভবনে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর পাশাপাশি জেলা পর্যায়েই উন্নত প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে বড় শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপও অনেকটা কমবে।




