ধর্ম ও জীবন

মাছ ফর গাঁজা কর্মসূচিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান।

ফিলিস্তিনেযে বর্বরতা হয়েছে তা মুসলিম বিশ্বের ব্যর্থতার অংশ। জায়নবাদীরা শুধু ফিলিস্তিনে নয় আমাদের এ অঞ্চলেও ভারতের হিন্দুত্ববাদের মাধ্যমে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছে। ভারত সম্প্রতি পাস হওয়া ওয়াকফ আইনের মাধ্যমে এ ধরনের সম্পত্তিতে হিন্দুদের প্রতিনিধি রেখে মুসলিমদের সম্পত্তি দখলে মেতে উঠেছে। তাই ওআইসিসহ মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের আহ্বান- ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক সর্ম্পক ছিন্ন করতে হবে। জায়নবাদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। গাজার সকল মানুষের মাঝে চিকিৎসা সামগ্রী, খাদ্য, বস্ত্রসহ সকল সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলকে একঘরে করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। জায়নবাদের দোসর ভারতে হিন্দুত্ববাদ আজ এই অঞ্চলে জায়নবাদী প্রকল্পের প্রতিবিম্বে পরিণত হয়েছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত দমন-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

তৃতীয় ভাগে বাংলাশে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলা হয়, পাসপোর্টে এক্সেপ্ট শব্দ পুনর্বহাল করতে হবে। ইসরায়েলের সঙ্গে সব সর্ম্পক ছিন্ন করতে হবে। গাজায় ত্রাণ সামগ্রীসহ চিকিৎসাসেবা দল পাঠাতে হবে। জায়নবাদের দোসর ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। পাঠ্য বইয়ে শিক্ষা নীতিতে আল আকসা মসজিদসহ ফিলিস্তিনের ইতিহাস অর্ন্তভূক্ত করতে হবে। ইসরায়েলিদের যারা সহযোগিতা করে তাদের সকল পণ্য বর্জন করতে হবে।

এ সময় মাহমুদুর রহমান বলেন, ভারতে সম্প্রতি ওয়াকফ সম্পত্তি আইন সংশোধনের মাধ্যমে মুসলিমদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্বত্বাধিকার হরণ করা হয়েছে—যা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনতা—যারা জুলুমের ইতিহাস জানি, প্রতিবাদের চেতনা ধারণ করি—সমবেত হয়েছি গাজার শহীদদের পাশে দাঁড়াতে। আজকের এই সমাবেশ কেবল প্রতিবাদ নয়, এটি ইতিহাসের সামনে দেওয়া আমাদের জবাব, একটি অঙ্গীকার, একটি শপথ।

মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, আমরা দেখেছি, গাজায় প্রতিদিন যে রক্তপাত, যে ধ্বংস চলছে, তা কোনো একক সরকারের ব্যর্থতা নয়—বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার ফল।

পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেকের মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, হেফাজতে ইসলাম, আহলে হাদীস, হাইয়াতুল উলইয়া, বেফাকুল মাদারিস, দারুন্নাজাত মাদরাসা, খেলাফত মজলিশ, খেলাফত আন্দোলনের নেতারা অংশ নেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা।