চার মাস আগের এই দিনে লাখো-কোটি জনতা নেমে এসেছিল রাজপথে। সেদিন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা কণ্ঠধ্বনিতে কম্পিত হয়েছিল রাজধানীর অলিগলিও। জনতার গণঅভ্যুত্থানে গণভবনের বিলাসী জীবন ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন ১৫ বছরের দুঃশাসনে বাংলাদেশকে বিকিয়ে দেওয়া স্বৈরাচার। এরপর মন খুলে কথা বলার স্বাদ নিচ্ছেন দেশের নাগরিক। যদিও এই চার মাসে থেমে থাকেনি হাসিনা ও তার দোসররা, দেশকে অস্থির করতে একের পর এক ষড়যন্ত্রে মেতে আছেন তারা। এরসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় বেশকিছু গণমাধ্যমও। এমনকি, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে সেদেশে বাংলাদেশের সহকারি হাইকমিশনেও চলেছে হামলা।
নানা আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মইন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দিনের কাঁধে ভর করে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে মসনদে বসেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই খুলে ফেলেন মুখোশ। শুরু করেন বিরোধীদল ও মত দমন। এতে ব্যবহার করেন বিচার বিভাগকে। একইসঙ্গে রাজপথের আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দিয়ে বল প্রয়োগ, মামলা, হামলা, গুম, হত্যার পথ বেছে নেন তিনি। ২০১৪ সালে বিনা ভোটে গদি টিকিয়ে রাখেন শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালে দিনের ভোট করেন রাতে। প্রশাসনের সব স্তরকে ব্যবহার করে ভোট জালিয়াতি, ভোট ডাকাতি ও মরা ব্যক্তির ভোটে ক্ষমতায় এলেও ২০২৪ সালের নির্বাচন খ্যাতি পায় ‘ডামি নির্বাচন’ নামে।
এভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে অবস্থান টিকিয়ে রাখা শেখ হাসিনা হয়ে ওঠেন একগুঁয়েমি, বেপরোয়া, অহঙ্কারী; হয়েঠেন হিংস্র ‘ওয়ানম্যান আর্মি’। এই অহঙ্কারের আগুনে পুড়ে অবমূল্যায়িত হন দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতারাও।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনের পর শেহাসিনার বেপরোয়া একগুঁয়েমিতাই তার জন্য হয়ে ওঠে কাল। সাত মাস পূর্তির আগেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি।
ভারত ছাড়া আশ্রয় মেলেনি কোথাও
এক সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘ভারতকে যা দিয়েছি সেটি তারা সারা জীবন মনে রাখবে।’ এর আগেপরে তার ভারতপ্রীতি নিয়ে ছিল আলোচনা, সমালোচনা, অভিযোগও। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ ভারতেই আশ্রয় নেওয়ার পর এটি ফের সামনে আসে। পরে জানা যায়, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে অন্তত ২০টি চুক্তি ও ৬৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অন্তবর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দাবি, এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের অধিকাংশতেই উপেক্ষিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থ। এভাবেই তিনি সেখানে থেকে গেছেন। যদিও যুক্তরাজ্যে যেতে চেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর চাউর হয়। তবে, সেখানের তথ্য বলছে, দেশটি তাঁকে নিতে রাজি হয়নি। পরে দুবাইয়ের নামও আসে তালিকায়। বিভিন্নসূত্রের তথ্য, আরব আমিরাতের এই রাজ্যটিও শেখ হাসিনাকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।




