জাতীয়

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ৫ মে পর্যন্ত ছুটিতে নতুন নির্দেশনা

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আগামী ৫ মে (মঙ্গলবার) পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এবারের ছুটিতে বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা রয়েছে। তারমধ্যে বেশ কিছু খাতকে নতুন করে ছুটির বাইরে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে ওষুধ ও রপ্তানিমুখী শিল্পের কারখানা চালু রাখা যাবে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে শিল্প-কারখানা, কৃষি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো এবং পরিবহন পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১) বর্ধিত সরকারি ছুটিতে এবার জরুরি পরিষেবার মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে বন্দরগুলোর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রমকে যুক্ত করা হয়েছে। এটি আগের ছুটির নির্দেশনায় ছিল না।

২) পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেটের সঙ্গে ডাকসেবা যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৩) সড়ক ও নৌপথে সব ধরনের পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন (ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল ইত্যাদি) চলাচল অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৪) ওষুধ শিল্প, উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্পসহ সব কারখানা চালু রাখা যাবে, যদি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে।

৫) শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি জুড়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি ছুটিতে, যা আগে ছিলো না।

৬) কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল যুক্ত করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৭) খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল, ওষুধ চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যমে (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) নিয়োজিত কর্মীরা ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে বলে জানানো হয়।

এবারের ছুটিতে সরকারের ১৭টি অফিস সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। জেলা-উপজেলায় পর্যায়ে পর্যন্ত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ৪ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল, পরে তা বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল করা হয়। চতুর্থ দফায় ১৪ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়। আর করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সবমিলিয়ে টানা ৪১ দিনের সাধারণ ছুটি চলছে দেশে।